‘যেকোনো মুহূর্তে’ যুদ্ধ শুরুর আভাস দিলো ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ , ০২:৪৩ পিএম


‘যেকোনো মুহূর্তে’ যুদ্ধ শুরুর আভাস দিলো ইরান
প্রতীকী ছবি

টানা ৩৮ দিনের সংঘাতের পর যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে, তার মেয়াদ ফুরিয়ে আসছে ক্রমশ। এর মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় বিবাদমান দুই পক্ষ এক দফা স্থায়ী যুদ্ধবিরতি টানার লক্ষ্যে আলোচনার টেবিলে বসলেও ভেস্তে গেছে তা। ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে নিজেদের শর্ত মেনে নিতে এখন হুমকির পাশাপাশি নানাভাবে চাপ দিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাময়িক যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগে ইরানকে আবারও আলোচনার টেবিলে বসাতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে পাকিস্তান ও মিসরও।

কিন্তু, ট্রাম্পের লাগাতার হুমকি-ধমকি ও বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ কর্মকাণ্ডে আলোচনার টেবিল থেকে দূরে সরে যাচ্ছে ইরান। এ অবস্থায় ‘যেকোনো মুহূর্তে’ আবার যুদ্ধ শুরু হতে পারে বলেও আভাস দিয়েছে দেশটি। 

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তেহরানের কোনো আস্থা নেই এবং ‘যেকোনো মুহূর্তে’ আবার যুদ্ধ শুরু হতে পারে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) স্থানীয় সময় ভোরে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে এমন কথা বলেছেন তিনি।

স্থায়ী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতার প্রশংসা করে বাঘের গালিবাফ বলেন, ইরানি বাহিনী শত্রুদের ১৮০টি ড্রোন এবং একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে আঘাত করেছে। এই এফ-৩৫-এ আঘাত করা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি প্রযুক্তিগত ও নকশাগত বিভিন্ন সক্ষমতার সমন্বয়ে পরিচালিত একটি অপারেশন।
 
তিনি আরও বলেন, এফ-৩৫-এর কাছে বিস্ফোরিত হওয়া ক্ষেপণাস্ত্র শত্রুপক্ষকে বুঝিয়ে দিয়েছে আমাদের কী ধরনের সক্ষমতা রয়েছে।

আরও পড়ুন


 এদিকে ইসরাইলের সামরিক ও রাজনৈতিক সূত্রের বরাতে দেশটির রেডিও জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে দেশটির সেনাবাহিনীকে।

সেইসঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ কর্মসূচি জোরদারে ১২টির বেশি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন ১০ হাজারের বেশি সেনা ও অন্তত ১০০ যুদ্ধবিমান।

অন্যদিকে এবার টোল দিয়েও কোনও জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করতে পারবে না বলে ঘোষণা করেছে ইরান। এই পথ দিয়ে কোনও জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলেই সেটিতে হামলা করা হবে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে দেশটির নৌবাহিনী।  

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনা কোনো ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছে। ওয়াশিংটন পূর্বসম্মত কাঠামোর বাইরে গিয়ে ‘নতুন ও অতিরিক্ত দাবি’ তোলায় এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

তবে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তির জন্য এখনও বেশ জোরালোভাবে কাজ করছে মিসর ও পাকিস্তান। মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি বলেছেন, ‘আশা করি, শিগগিরই আমরা এটি করতে পারব। শুধু আমাদের অঞ্চলেই নয় বরং পুরো বিশ্বই এই যুদ্ধের কারণে ভুগছে।’

এছাড়া, পাকিস্তান সরকারের কয়েকটি সূত্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল সম্ভবত আগামী সোমবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার কারিগরি পর্যায়ের আলোচনায় বসতে যাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সপ্তাহব্যাপী চলা সংঘাতের একটি স্থায়ী সমাধান চূড়ান্ত করা, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও মধ্যপ্রাচ্যের জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই আলোচনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আলোচনার তারিখ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা না হলেও ২১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র–ইরান বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এ বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। 
 
আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission